Wednesday, July 4, 2018

ছবিঘর

শহর জুড়ে আজ বৃষ্টির হালখাতা
মাঝে দু' জোড়া পা, একটি ছাতা
ছবিঘর ভেসে যায় ফ্যাকাশের ভীড়ে
আজও নতুনের সাক্ষী, পুরোনো কলকাতা।

ফিকে হওয়া প্রাণে রেডিও নস্টালজিয়া
ফাঁকি দেওয়া প্রেমে ভিজে যায় হিয়া
দূর বিদেশে মনের মানুষ, মনের নেয় না খবর
ভাঙা শহর, আদরের নৌকো; মাঝ দরিয়া ।

Thursday, June 28, 2018

বিকেল

চুপি চুপি পা টিপে বিকেলে
প্রেমে টেমে ভরে কার খাতা?
মেঘের আড়াল থেকে গল্প শুনি,
আমি? তুমি? না কলকাতা?

ব্যালকনি উঁকি মারে ইশারায়
ঘুম ভাঙে কলীদের কেষ্টর
আজও কত হাবিজাবি ভেবে চিনতে,
দেখো আমার তোমার প্রেম নষ্ট!

কিছু কিছু চাওয়া থাকে কবিতায়
আর কিছু কিছু ঘাটে জল খাওয়া চাই,
কিছু কিছু মানুষের চোখ চাওয়া চাউইতে
দর্শন বুঝি হলো হাওয়া তাই ...

ঘুরে ঘুরে শেষে যদি ফিরে যাও
বৃষ্টি নামতে পারে সন্ধ্যেবেলায়!
সারাদিন ঘাম মুছে আর  কি পেলে বলো
তোমার সাজানো কলকাতায়?

Monday, June 25, 2018

তুই

আমি তোর জন্য কিছুই লিখি না কখনো
না তোর কোনো চাওয়া আছে সে নিয়ে, না ভাবনা
তুই আমার ছোট বেলার সাজিয়ে রাখা বইয়ের মতন,
ধুলো হোক, বা নতুন বই, কেউ তোর জায়গা নিতে পারবে না।

আমার প্রথম কবিতার খাতায় এখন হলুদ পাতা
অসংখ্য লেখা, একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টায়
তুই, আমার ছোটবেলায় লিখে ফেলা সেই বড়বেলার কবিতা
সেই খাতা খুল্লেই, যার কোলে অযথাই মন ঝড়ে পড়ে।

আমার সকল না পাওয়ার ইতিহাস জমে আছে
যা শুধু জমে থাকতেই পারে, না চলে,না চলতে দেয়
তোর ঠোঁটের কোনে লুকিয়ে রাখা হাসি, তোর মনের মিঠে গন্ধ
আমায় না পাওয়া কে চুপ করে ভালোবাসতে শেখায়।

Friday, June 22, 2018

কুমারসম্ভবের আরেক কবি

যাহাদের অন্দরমহলে একটি শব্দেরও জন্ম হয় না
তাহারা পরাণ খুলিয়া আমাদের বিচার করিবেন,
ইহাই আমাদের ভাগ্যরেখা;
আমি তোমার কবি, তোমার স্রষ্টা স্বর্ণকার
কিন্তু অমূল্য ধন লুটিবে শেষে কারিখানার কারিগর।

তারপরই হয়তো কেউ কেউ চেঁচাবে,
"আমি কেড়ে নিতে দেবো না", আহাম্মক
এসবের মাঝেই ঠিক উঁকি মেরে যাবে প্রেম;
কোনো কুমারী মন হারালে, হয়তো কুমারসম্ভব।।

Thursday, June 21, 2018

সাঁতার

আছে ভেঙে পড়া এই শহর
সাথে ভাঙা ইমারত যত
এই ভাঙা চোরার ভীড়েই
ভাবি মন জুরব কত

আমি মনে মনেই থাকি
কখনো মনকেই দি ফাঁকি,
আর কঠিন নিরীক্ষনে
কোনো মেঘমল্লার খুঁজি

আমার ঘাস বলতে শীতল
আর ফুল বলতে সুনীল
আমার নীল সবুজের ছবি
শুধু তোমার জন্য আঁকি

এই বর্ষামুখর দিনে
হঠাৎ গান ধরলো কবি
দেবে সুরে সুরে সাঁতার
তোমার সেতারের ভৈরবী।

Saturday, June 16, 2018

এক পশলা বৃষ্টি

তুমি প্রখর রোদের মরশুমে হঠাৎ মেঘলা দিন
তোমাকে পেয়ে গুমোট এক মন আজ হল স্বাধীন।

তার সাথে এই যে নেমে আসা এক পশলা বৃষ্টি
হঠাৎই যেন অন্ধকারকে হারিয়ে দিয়েছে দৃষ্টি।

সহস্র যুগ আগেও উড়েছিল এভাবেই কোনো কবি
আমি কবি নই, কবিতা শুধুই  এই মনে তোমার ছবি।

যাক বৃষ্টি থেমেছে, থামছে সাথে আমার কলমও
তুমিও বরং, গভীরে যেখানে ছিলে, সেখানে ফেরো।



Friday, June 15, 2018

আগামীর ছবি

কত দিন ঢোলে পড়বে একই রাত্রির কোলে
কত সূর্য জ্বলতে থাকবে কোটি বর্ষ জুড়ে
কত প্রেম অশ্রু ফেলবে হিংসার দাবানলে
কত সত্যি ঢেকে যাবে সময়ের তৃণমূলে
কত ঝড় উল্টে দেবে দেওয়াল আগলানো ছবি
কতবার পেছন ফিরবে যত আগামীর কবি
তবে যে যতই কারুক না কেন পায়ের নিচে জমি
গানে থাকবেন সুমন, আর প্রাণে শুধু তুমি।

Thursday, June 14, 2018

তুমি থেকো

মনের এমন গভীরে তুমি আছো
তোমায় সব সময় যায় না দেখা
অথচ যখন ফিরে ফিরে পাই তোমায়
স্বভাবেই গান হয়ে উড়ে যায় সব কথা
আমার কোনো শিক্ষা দেওয়ার শখ নেই
না আছে কালজয়ী হওয়ার কোনো স্বপ্ন
মানুষ তোমাকেই পাক হৃদয় জুড়ে,
তোমার ভাষাই হোক দুর্বলের আদি, হোক অনন্ত।

Wednesday, June 13, 2018

রাত

আমাদের রাত যেন হাতছানির মণি মাণিক্য
যা আছে, তার থেকে বেশী না থাকার দুর্ভাগ্য।

আর্দ্রতার বাড়াবাড়ি

থমথমে সন্ধ্যে চিঠি লিখতে চায় তোমায়
ডাকঘরে তালা, ঘাম দ্বার খোলে বৃষ্টির ঠিকানায়

সে চিঠি আশ্রয় খোঁজে রূপকথার কোলে
এক এক করে অক্ষর সিক্ত হয় নোনা জলে

যদি এখনই নামতো এখানে সুমন-অঞ্জনের বর্ষাধারা
সূক্ষ্ম কথার ঝাপ্টানিতে সরলরেখার আয়না গড়া

কেউ কথা রাখেনি, ঘরে বসে অভিমানের পালা
বৃষ্টি খোঁজো কোন আশায়? তুমি বৃষ্টির অবহেলা ।।




Tuesday, June 12, 2018

Baje lekha

অনেক ভেবে ঠিক করেছিলাম, তোমায় নিয়ে কবিতা লিখবো না
সেই তো একই গদোগদো প্রেম উৎলে ওঠা প্রেমের পেঁয়াজি
ওসব দেখলে তোমারও মনে আমার জন্যে কখনো প্রেম জাগে না;

সে হতেই পারে তোমার সেই খোলা চুল মাঝেমাঝেই আমার মনে পড়ে,
জেগে ওঠে ভেতরের সমস্ত ন্যাকামো, হাততালি দিয়ে হো হো করে হাসে;
এসব বড়োই বিরক্তিকর, না থাক! এখন এগোতেই হবে এসব ভুলে।


অঙ্ক

ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে রবির মনে হলো, আজ সে অফিস যাবে না। সুমনদা যা ভাবার ভাবুক, যে যা মনে করার করুক; আজ রবিবার। অলস হওয়ার দিন। মাথার পাশের টেব...