ধূসর পৃথিবী দিয়ো না আমায়;
সমুদ্র, খনি, মণি - মাণিক্য নয়
আমায় সবুজ দিয়ো, পুনর্জন্মের থলিতে
সাথে দিয়ো আত্মবিশ্বাস, চেতনা
যাতে ধূসরের বুকে রামধনু এঁকে দিতে পারি।
ধূসর পৃথিবী দিয়ো না আমায়;
সমুদ্র, খনি, মণি - মাণিক্য নয়
আমায় সবুজ দিয়ো, পুনর্জন্মের থলিতে
সাথে দিয়ো আত্মবিশ্বাস, চেতনা
যাতে ধূসরের বুকে রামধনু এঁকে দিতে পারি।
কাল শুনেছিলাম বোকা বাক্সে,
দাউ দাউ করে জ্বলছে বাংলাভূমি
দুঃসময় ঘনিয়ে আসছে দ্রুত -
ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাঙালী
হঠাৎ কেঁপে উঠলো শীতে -
যেন বাড়ি ফিরে এসেছে মামা
অনেক বছর পর, বিদেশের চকলেট নিয়ে।
এভাবেই কাঁপতে কাঁপতে বাঙালী
তুমি কাঁপিয়ে তুলো আবার এই ধরিত্রীকে
যাতে আনন্দের বাজারে তোমার মূল্য ফিরে আসে
অনেক দিন আগে বিদেশে চলে যাওয়া মামার মতো ।।
শুভ্রাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে মনটা বেশ উদাস ছিল অভীকের। হতে পারে দু' দিনের জন্য আলাদা থাকা; কিন্ত এক বছর তারা এক সাথে আছে। নব দম্পতি।
উদাস হলেও একটা ফুরফুরে মেজাজ আছে অভীকের। বাইরে ড্রাইভার সহ ভাড়া করা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ইচ্ছে মত আজ ও যেকোনো জায়গায় দাঁড়াতে পারে, যেমন ইচ্ছে খেতে পারে; কোনো তাড়া নেই। মালদহ স্টেশন থেকে বেরিয়েই দেখতে পেলো কুশল গাড়িতে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অভীক কাছে আসতেই কুশল ড্রাইভারের দরজা খুলতে ব্যাস্ত হলো। তারপর অভীককে সামনের দরজা খুলতে দেখে একটু অবাক হয়েই বললো, ' সামনে বসবে নাকি ?'
অভীক একটু হেসে বললো, ' হ্যাঁ, যাতে কেউই না ঘুমাই '।
গাড়িতে ঢোকার সময় কুশল অভীকের সিটটা পেছনে ঠেলে দিলো, যাতে লম্বা মানুষটার পা রাখতে কোনো অসুবিধা না হয়। সিটে বসে বেল্ট বেঁধে নিয়েই অভীক বললো, গাজলের কোনো ভালো ধাবায় দাঁড়িয়ে একটু ব্রেকফাস্ট করে নেবো, ঠিক আছে? সেই ভোর বেলা থেকে না খেয়ে চলছে। কুশল মাথা নেড়ে সম্মতি দিল, মনে মনে নিশ্চই খুশি হয়েও।
মালদহ থেকে গাজল মিনিট কুড়ির পথ। রাস্তার ধারেই মা লক্ষ্মী হোটেল। বেশ কিছু সিঁড়ি দিয়ে উঁচু করে রাখা হোটেল এ ঢোকার পথ। গাড়ি পার্ক করে দুজনে সেই সিঁড়ি ধরে উঠে পড়ল জনমানবহীন - চেয়ার - টেবিলে ঢাকা মা লক্ষী হোটেলে। কুশল হাঁক দিলো, ' খাবার আছে কি?' বেশ কিছুটা দূরে দুজন মধ্য বয়স্ক মানুষকে একটি ঘরে দেখা গেলো। তারা কি যেন বললো। অভীক বুঝল না। কুশল আবার একই হাঁক ছাড়ল। এবার ভেতরকার লুঙ্গি পড়া মানুষটা একটু জোড়েই জবাব দিলো, ' না, কিছু হবেনা এই সকালে!'
অভীক ঘড়িতে দেখলো, ১০টা বাজে। মনে মনে ভাবলো, এই নাকি সকাল? তাতে আবার খাবার নেই! একটু বিরক্তি আর হতাশা বেরিয়ে এলো, ' একটা বোর্ড লাগিয়ে রাখতে পারে তো!' কুশল হালকা সুরে বললো, ' সারা রাত এরা ডিউটি করে তো, একদম ভোর অবধি। তাই এই সময়টা খাবার থাকে না বোধহয়। এখন ওতো গাড়িও নেই। ডিম টোস্ট খাবে নাকি?'
অভীক বললো, ' না, আর কোনো ধাবা নেই এদিকে ভালো?' কুশল সাথে সাথেই বললো, ' হ্যাঁ, আছে তো। অনেক আছে। সামনেই বনফুল।'
গাড়ি ৫ মিনিটে পৌঁছে গেল বনফুল ধাবায়। অভীক ঢুকেই কর্মচারীকে জিজ্ঞেস করলো, খাবার পাওয়া যাবে? হ্যাঁ, যাবে তো। রুটি আছে, ডাল ফ্রাই হবে, আলুর পরোটা, সাথে কাবুলি ছোলা। মনটা চট করে আলুর পরোটার দিকে গেলেও, অভীক বললো, সে রুটি আর ডালই খাবে। সাথে চা। কুশলেরও একই ব্রেকফাস্ট ঠিক হলো। কুশল একটু এদিক ওদিক ঘুরছিল; অভীক ওকে ওর সামনেই বসতে বললো।
তিনটে রুটি আর ছোলার ডাল চলে এলো দু'প্লেট। দেশের গরম পরিস্থিতির আলোচনার মাখন লাগিয়ে গরম রুটি আরও কিছুটা সুস্বাদু হয়ে উঠলো। অভীক একটু পছন্দ করে মানুষের চিন্তাধারা বুঝতে। যদিও, ইদানিং দেশের মানুষের মস্তিষ্কে যেন ভয় আর অবিশ্বাস ছাড়া অন্য কিছুর কোনো জায়গা নেই। কুশলও তেমন ব্যতিক্রম নয়। ফোন, টিভি, খবরের কাগজের মাধ্যমে হানাহানির চর্চা মানুষকে সৈন্য বানিয়ে তুলছে। অভীক হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মিলিয়ে চলে; কাউকে কিছু শেখানোর, বোঝানোর ইচ্ছে হয়না তার। তার মনে হয়, মানুষ ভালো হতেই চায়; সাময়িক ভাবে উত্তেজিত হওয়া এক প্রকার নিজেকে নিজের অস্তিত্ব জানানো - যেমন যেকোনো ডেসার্টে অল্প নুন তার স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।
খাওয়া শেষ হলে, বিল মিটিয়ে অভীক গাড়িতে গিয়ে বসলো। এবার বাড়ি ফেরার পালা। সুন্দর ভাবে গাড়ি চলতে থাকলো গঙ্গারামপুরের পথে। এটা - ওটা আলোচনা চলছে দুজনের। অভীক শুনছে, মাথা নাড়ছে; কুশল অনেক কিছু বলছে, আনন্দে আছে। বুনিয়াদপুর পেরিয়ে একটু এগোতেই কুশল গাড়ি থামিয়ে দিলো। অভীক একটু অবাক হয়ে বললো, কি হলো?
- এমন একটা জিনিস দেখলাম, দু'বার না দেখে পারছি না। এই বলে কুশল হাইওয়েতেই গাড়ি ঘুরিয়ে ৫০ মিটার পেছনে গেলো। আবার গাড়ি ঘুরিয়ে আগের রাস্তায় নিয়ে এলো।
কি দেখলেটা কি তুমি? অভীকের মনের মধ্যে তখন পুলিশ পুলিশ গন্ধ আসছে।
- ঐযে সামনে সাদা এম্বাসেডরটা দেখছো, ওটা আমার প্রথম গাড়ি। ১৩ বছর আগে বিক্রি করেছিলাম। রাস্তায় দেখেই মনে হয়েছিল, কিন্তু তাও একবার শিওর হওয়ার জন্য ঘুরলাম।
কুশলের এই ভাব দেখে যেন কোন্ অদৃশ্য অজানায় হারিয়ে গেলো অভীক। তার নিজের কোনো গাড়ি নেই, কিন্তু সে জানে মানুষের নিজের চালানো বা কেনা গাড়ির সাথে বন্ধন থাকে একটা। সেটা কতটা গভীর তা আজ কুশলের এই মুহুর্তের উত্তেজনা অভীককে বুঝিয়ে দিচ্ছে যেন। শুধু গাড়ি কেন? এ যেন এক মহাজাগতিক মিল - যা সবাই কিছু না কিছু নিয়ে অনুভব করে কখনো বা কখনো। পুনর্ভবা নদীর ব্রিজের ওপর এম্বাসেডরটা দাঁড়ালো। কুশলও গাড়িটা থামিয়ে অভীককে বললো, যাই একবার কথা বলে আসি?
অভীক আবারও হেসে মাথা নেড়ে সায় দিলো।
There's a dawn waiting for you somewhere
With its promises of golden dew drops on rice leaves
That fleeting epoch when songbirds sing
And darkness succumbs to an inevitable reality.
But that dawn is not for me.
I'm the lover of waves and white lilies,
Gliding forever on ripples of time -
Who'd rather spend a dreamless night.
So I'll be far away, swimming against
Anything that promises fruits of life.
সমস্ত ভুলে যাওয়ার মাঝে,
মাঝরাত্রের ঝাড়বাতি হয়ে এসো।
যেমন পালকিতে আসে আশা
রুক্ষভূমির রঙিন আল্পনা হয়ে
ঠিক তেমনি,
সন্ধ্যেবেলার ঝড়ের মতো
পিঠ ভেজানো প্রেমের মতো
মুখচোরা, গোপন কলমের মতো
শান্ত, নিবিড় আলিঙ্গনের
মুগ্ধতা ছড়াতে এসো।
দূর নক্ষত্রে মিলিয়ে যাওয়ার পথে
ক্ষণিকের লাল ধূমকেতু হয়ে
অন্ধকারের রেশমী ছোঁয়ায় এসো;
নিঃশব্দের শব্দকনায়,
তরঙ্গিত আনন্দধারায়
হঠাৎ করে ভাবতে শেখার
প্রস্ফুটিত জ্ঞানের শিখায়
আলতো কোনো বাস্তবতায় ...আবার ফিরে এসো।
গরম বেড়ে চলেছে পৃথিবীতে
তাই জীবন নাকি অস্বস্তিতে আছে।
পশু, পাখি, মানুষ, চিতা
সব দাউ দাউ করে পুড়ছে
তাই জীবন নাকি অস্বস্তিতে আছে।
কিন্তু সেই সব জীবনের কি, যারা জন্ম নিচ্ছে -
সমুদ্র গহ্বরে, ঠিক গরম বেড়েছে বলেই?
আমি আছি তাই ব্রহ্মাণ্ড আছে!
আজ্ঞে না! তুমি আছো প্রকৃতির নিয়মে - বাঁধা।
তোমার নিয়মে প্রকৃতি উত্তর দেয়, চলে না।
না ভেবে কিসের তোমার ভালো থাকা?
কি তোমার সংসার? কি তোমার অস্তিত্ব?
ভালবাসতে পারলে বাসো - মুহূর্তকে।
তাকে আঁকড়ে ধরা যায় না, বন্দী করা যায় না
শুধু অনুভব করা যায়।
পাওয়া যায় অস্তিত্ব নিজের
মহাকালের সিন্দুকে
ভোরবেলার টগরের মতো।
ভোর-রাতে, নিঃশব্দে সময় এসেছিল পাশে
জীবনের কিছু ক্ষণ নিয়ে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ।
হাতে হাত, পুরোনো দুই বন্ধুর দেখা
বহুদিন পর; হঠাৎ করেই খুঁজে পাওয়া নিজেকে।
একে অপরকে জিজ্ঞেস করলাম
আমার জায়গায় কি করতে তুমি?
দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে বললাম,
হয়তো পড়তাম বেশি, সে হাসলো।
বললো, ভালই হয়েছে; মানাতো না তোমায়।
যেমন মানায় না আমায় তোমার জায়গায়।
তারপর আবার দুই বন্ধু চুপ,
সব বন্ধুরাই যেমন হয়।
সময় তখন নিজেকে ভাঙে মুহূর্তে
সম্মুখে থেকেও যেন আড়ালে -
এক বন্ধুর কথা হয়ে ফুটে
মিশে যায়
অন্য জনের আবেগের স্রোতে।
আলো ফিরে আসে ঘরে, জানালার গা চুঁয়ে
ঘুমন্ত বর্তমান জড়িয়ে ধরে কম্বল আরও;
চোখ খুলে দেখি
সময়, বন্ধু, আমি, কেউই নেই
শুধু
মুহূর্ত নিঃশ্বাস নিচ্ছে পাশে ।
আমি মানবতার খাতিরে বলতে পারিনা -
আমার ঘর উড়িয়ে দিয়ো না, সংসার উপড়ে ফেলো না,
আমায় সভ্য হতে হবে;
অসভ্য চিলেকোঠাগুলোকে দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখি
নিত্য দিন; চোখের পর্দার আড়ালে;
এত তার তেজ যে অশ্রু অনেক আগেই বাষ্প হয়ে গেছে
রক্ত মাংস যতটুকু আছে, তাও খুব তাড়াতাড়ি পুড়ে যাবে।
আমার কঙ্কাল নিয়ো; দু'হাতে সাজিয়ে
টাঙ্গিয়ে রেখো তোমার বসবার ঘরে
এক সময় যেমন অসভ্য, লড়াকু বাঘকে রেখেছিলে।
প্রতিবাদের ভাষা আমার জানা নেই -
কারণ আমি তো সভ্য ভাষা আদৌ শিখিনি;
হুংকার যেখানে পরাস্ত, হাহাকারের আর মূল্য কত?
ভেবো না, আমি তোমার রণক্ষেত্রে ঋণী
আমার সংগ্রাম কেবলই অন্তরের প্রবাসী
তাই এই ভূমি আমার, রক্ত আমার, দ্বন্দ্ব আমার
আমায় মানবতা বোঝাতে এসো না,
দেশ বোঝাতে এসো না, দুঃখ, প্রেম বোঝাতে এসো না।
প্রশ্ন নিজেকে করো;
'তোমার' বিচারভূমিতে নাগরিকতা আছে কি না।
ধূসর পৃথিবী দিয়ো না আমায়; সমুদ্র, খনি, মণি - মাণিক্য নয় আমায় সবুজ দিয়ো, পুনর্জন্মের থলিতে সাথে দিয়ো আত্মবিশ্বাস, চেতনা যাতে ধূসরের ব...