Wednesday, October 12, 2022

Amo(u)rphous lives

I wish there were mysteries in the obvious

And sense refrained from making sense;

I wish patterns didn't succumb to laws,

But intersected their own evolution - like us.


Or rather, as we used to do

Before it all came crashing down,

And turned amorphous.

Apply your quench, bring out the toolbox,

Make your measurements 

For we have aged, like broken things do.


What of this new discovery, I wonder!

Magnets, frozen like forgotten melodies 

Disorder, wavelengths and relaxation -

Nothing that I haven't heard of, or ignored.

And yet, through a series of holocausts 

Love and life find a way; a common way.


Tomorrow, we dive deeper; into the madness 

Of memories and promises; stability and vortices 

To seek further, to seek nothingness 

To answer 

Unwarranted self doubts and the same grievances.


To tomorrow, we toast; To tomorrow, we pray 

Tomorrow never comes but you have, today.

Sunday, September 25, 2022

পক্ষ

 আমি ঝড়ের কথা ভাবিনি বহু দিন; বহু কাল, বহু যুগ

ধ্বংসের পর বাসার গভীর খুঁজেছি; গড়েছি; বুঝেছি 

ভেঙে যাওয়া বৃক্ষের জীবন্ত শাখা জুড়ে; পাতা মুড়ে 

ছাউনি বুনেছি আলো-ছায়ার; থেমে যাওয়ার; মেনে নেওয়ার। 


ঝড় আসছে মাধবী! বুঝতে পারছো? ঘর-টা কেমন গুমোট হয়ে আসছে না?

এই তো, শঙ্কার আঁচল দেখা দিচ্ছে তোমার ভ্রুকুটির নির্লজ্জতায় ;

বাড়িয়ে দিচ্ছে মুহূর্তের এক একটা খোঁচায় তোমার সৌন্দর্য; তোমার অভিমান -

ঝড় আসছে প্রিয়তমা - তোমার ভেতর - সব তছনছ করে দিতে 

আমার সাজানো কুপমন্ডুকতা - ভেঙে চুরমার করে দিতে ধৈর্যের অসহ্য অত্যাচার। 

 

আমি এই উপত্যকার মানুষ নই অনুপমা; আমার রক্তে জল ঢেলো না আর 

আগুন জ্বালিয়ে দেবো নিজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে; পুড়ে ছাই হবে আত্মসম্মান 

বাস্প হবো আমি; বসন্তে মত্ত হবে কালবৈশাখীর পদচিহ্ন;

দশচক্র ছুটে যাবে আমার বুক ফুঁড়ে; ছিন্ন মস্তক মিশে যাবে হাওয়ায় 

ঠিক তখন আসবে ঝড়; দেখো দু চোখ ভোরে, আমার অস্তিত্ব সেদিন;

ঝড় আনবো দিগন্তের ওপার থেকে, অভিশাপের তান্ডব আশীর্বাদ রূপে। 

 

 শুনবো না এই সংসারের মৃদু মধুবনী সঙ্গীত; 

ধ্বংস যে জীবনের চেতনা, অনুপ্রেরণা তাকে বোতলে ভোরে দিয়ো না। 

আমরা মাটির মানুষ নই; ত্রিশূল বুকে নিয়ে ঘুরছে অশ্বত্থামা 

রক্তে এখনো অমরত্বের পরজীবী দাপাচ্ছে প্রিয়তমা 

ঝড় তো আসবেই; লুন্ঠিত হবো আমি নিজের হাতে, চাবুকে 

দাও দশভুজা তোমার ধার করা অস্ত্রের প্রাক-নির্ধারিত নিয়তি 

এই ঝড়ের বুকে ঢেলে আবার; আরেক বছর পার; মহিষাসুরের হার। 

আমার গল্পে লেখা আছে আশীর্বাদের গান; ব্রহ্মার মার। প্রতিবার। প্রতিবার।

Tuesday, September 20, 2022

Silhouette of a city

Twelve past twelve, and I am walking alone 

Through my present, through these streets

By now used to my rehearsed farewell speech 

Silence surrounds and sounds a distant dream.

I walk as cars speed by, opposite to me 

I take a lane perpendicular to what shouldn't be.

My stomach churns out the usual adjectives 

But I know that I'm not truly hungry 

I never was; say whatever may the history

That my steps have written; they are free.







Monday, September 5, 2022

বুলডোজার

 ভেঙে যায় এক আগাছা-মোড়া বাড়ি,

বুলডোজারের স্বপ্ন-মাখা দাঁতে 

পুকুরপাড়ে ডোবার প্রতীক আমি 

চোখ বুজে নিই আলতো দুই হাতে 


আমার নাকি রাজমুকুটের মাথা 

থমকে থাকা জীবন অট্টহাসে 

আকাশ ভাঙে গর্জে ওঠা কথায় 

নীরবতা যেন কালির দোয়াতে ভাসে 

Sunday, June 12, 2022

৩৬৫.২৫

 তখন ক্লাস ১১-এ উঠেছি, তিন মাস ছুটির পরে স্কুল খুলেছে আবার। একদিন খবর পেলাম আমি, কল্যাণ ও ক্লাস ১০-এর ঋদ্ধিকে নিয়ে স্কুল থেকে একটা কুইজ টীম তৈরী করা হয়েছে - Indian Centre for Space Physics থেকে আয়োজিত জাতীয় স্তরে কুইজ কম্পিটিশন; চার ভাগে বিভক্ত - district , zonal, state আর national. বালুরঘাট আদর্শ বিদ্যামন্দিরে written একটা টেস্ট দিয়ে শুরু - প্রথম ধাপ, শহরের সব স্কুল থেকে একটা করে টীম এসেছে। প্রথম তিনটে টীম সিলেক্টেড হবে district level প্রতিযোগিতার জন্য। 

ছোট থেকেই আমার আর কল্যাণের পদার্থ বিদ্যায় তুমূল আগ্রহ, ঋদ্ধিকে সত্যি বলতে তখন চিনতাম না - কিন্তু ওই written টেস্টে বুঝে গেছিলাম আমরা তিনজন বেশ ভালো একটা টীম। আদর্শ বিদ্যালয়, বালুরঘাট গার্লস হাই স্কুল ও আমাদের মধ্যে district level প্রতিযোগিতা হয়। সবই ঠিক মতো এগোচ্ছিল, তবে হতচ্ছাড়া আদর্শের ছেলে গুলো আমাদের পিঠোপিঠি পয়েন্ট স্কোর করছিলো। গার্লস স্কুল কম্পিটিশনের মধ্যে ছিল না। এলো টাই ব্রেকার। একটা প্রশ্ন করা হবে - যারা আগে সঠিক উত্তর দেবে তারা district champion হয়ে zonal রাউন্ডে খেলতে যাবে। প্রশ্নটা ছিল - গড়ে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর কতদিন সময় লাগে? - চারটে option  - ৩৬৫.২৫ , ৩৬৫.৩৬, ৩৬৪, ৩৬৬। সাথে সাথেই কল্যাণ আমার কানে বললো, "চার বছরে একবার লীপ-ইয়ার" - আর সাথে সাথেই আমরা উত্তর দিলাম ৩৬৫.২৫। অবাক কান্ড! সঞ্চালক বললেন উত্তর ভুল - প্রশ্ন গেলো আদর্শের কাছে - তারা বললো ৩৬৫.৩৬ - এবং সভায় ঘোষণা করা হলো, যে আদর্শ district champion.

খুব হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছি দুপুরবেলা। এক ঘন্টার মধ্যে কল্যাণ সাইকেল ছুটিয়ে আমার বাড়ি এসে হাজির - আর সাইকেল থেকে নামার আগেই বলছে - "তিরু, আমাদের উত্তরটা ঠিকই ছিল - এই দ্যাখ।"

কি দেখবো? সেটা কনটেক্সটে আনার জন্য আরেকটু ইনফরমেশন দেওয়া জরুরি। যে তিনটে টীম written exam থেকে সিলেক্টেড হয়েছিল, তাদের প্রত্যেককে কুইজ অর্গানাইজাররা বেশ কিছু বই দিয়েছিলেন astrophysics-এর বিভিন্ন তথ্যের ওপর। তার মধ্যেই একটা বই তখন কল্যাণের হাতে। একটি বাক্য জ্বলজ্বল করছে - সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর গড়ে লাগে ৩৬৫.২৫ দিন। 

হাল ছাড়ার পাত্র আমরা কেউই ছিলাম না। সাথে সাথে যাওয়া হলো ঋদ্ধির বাড়ি। সেখানে ঋদ্ধির বাবা, মা, ভাই -সবাই একটু দুঃখ করেই বসে ছিলেন। আমি আর কল্যাণ প্রবেশ করলাম বুকে, চোখে, মুখে আগুন নিয়ে - আমরা ঠিক উত্তর দিয়েছি - আমাদের ইচ্ছে করে আটকানো হয়েছে! কিন্তু প্রমান কি? প্রমান ছিল অর্গানাইজারদের সাথেই! District level কনটেস্ট পুরোটাই বন্ধ করা হয়েছিল হ্যানডিক্যামে। ব্যাস! সাথে সাথে জানানো হলো আমাদের স্কুলে - তাপস স্যারকে। উনি অবিলম্বে যোগাযোগ করলেন কুইজ অর্গানাইজারদের। ওনাদের প্রথম বক্তব্য ছিল যে আমরা নাকি ভুল উত্তর দিয়েছি। কিন্তু তা বললেই তো আর হয় না - কেউ কেউ অন্যায় মেনে নিতে শেখে না। হ্যানডিক্যামের কথা উঠতেই সুর পাল্টে গেল - পরের দিন খবর এলো আমরাও zonal লেভেলে যাচ্ছি, আদর্শের সাথে। 

Zonal level প্রতিযোগিতা হলো মালদহে। সেখানে ছিলাম আমরা, আদর্শ, ও মালদহের দুটি টীম। যারা জিতবে তারা State level খেলতে কলকাতায় যাবে। কুইজের ফরম্যাটটা হলো এরকম - সব টীমকে directly ১২-টা প্রশ্ন করা হবে - কোনো প্রশ্নই pass করা হবে না - মানে কোনো বোনাস পয়েন্ট নেই। ৪৮-টা প্রশ্ন শেষ হওয়ার পর যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে টাই ব্রেকার, ইত্যাদি। তবে সেই সবের কোনো প্রয়োজন হয়নি - নিজেদের প্রথম ১১-টা প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে কুইজ শেষ হওয়ার আগেই আমরা zonal champion হয়ে medal গলায় ঝুলিয়ে নি। লক্ষ্য পরের ধাপ - খেলা হবে। 

স্কুলে তখন টিচাররা আমাদের তিনজনকে নিয়ে খুব খুশি। বাবা-বাছা করে মাথায় তুলে রাখা হচ্ছে। আমি এমনিও স্কুলে সেই আদর-যত্ন ছোট থেকেই পেয়েছি (obedient ছাত্র হওয়ায়) - তবে কল্যাণ তখন স্কুলের হিরো - যেমন বন্ধু মহলে- তেমনি বান্ধবী হৃদয়ে -আর ঠিক ততটাই পপুলার টিচার্স-রুমে। 

মহানন্দে আমরা কলকাতায় আসি। আমার সাথে বাবা-মা, ঋদ্ধির সাথে ওর বাবা, কল্যাণ এসেছে তাপস স্যারের সাথে। সল্ট-লেকের লবন হ্রদ বিদ্যাপীঠে state level কম্পিটিশনে এসেছে ৬-টা স্কুল। মজার বিষয় - বাঁকুড়া থেকে এসেছে সেই বছরের  (২০০৫) মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারী। 

এটা আমার জীবনের প্রথম মঞ্চ নয় - তার আগের বছর স্কুলে টিচার্স ডে-তে উকিলের অভিনয় করতে উঠেছিলাম। তবুও এই মঞ্চ ছিল প্রথম যেখানে নিজেদের ক্ষমতায় পৌঁছেছিলাম। ৬-টি টীম; ৬-টি স্কুল - ১৭টি ছেলে। মুর্শিদাবাদ থেকে যেই স্কুল qualify করেছে - সেখান থেকে এসেছে ২-জন। চশমা পড়া খুব serious তাদের মধ্যে একজন। লটারী করে ৬-টি টীম A থেকে F position-এ গিয়ে বসলো -আমরা হলাম B; Calcutta Boys টীম A.

সেদিনের সঞ্চালক Indian Centre for Space Physics-এর তৎকালীন ডিরেক্টর Prof. সন্দীপ চক্রবর্তী। কুইজের ফরম্যাট বুঝিয়ে দিলেন সবাইকে - ৬-টি টীমকে প্রথমে clockwise (A to F) direct প্রশ্ন করা হবে - সব প্রশ্নে প্রথমে চারটে করে option থাকবে। নিজের direct প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে ৫ পয়েন্ট - ভুল উত্তর দিলে clockwise পরের টীম সুযোগ পাবে ৩ পয়েন্টের জন্য - না পারলে পরের টীম খেলবে ১ পয়েন্ট পেতে। এভাবে একটা রাউন্ড শেষ হবে। তারপর দ্বিতীয় রাউন্ড হবে anticlockwise (F to A). তারপর প্রয়োজন মতো টাই-ব্রেকার। 

শুরু হলো Calcutta Boys-কে দিয়ে। প্রথম প্রশ্ন; ৫ পয়েন্ট , ভুল উত্তর! আমরা সাথে সাথে উত্তেজিত - হাতের মুঠোয় ফ্রীতে ৩ পয়েন্ট আসতে চলেছে। কিন্তু তার আগেই উত্তরটা দিয়ে বসলেন সঞ্চালক মহাশয় নিজেই! সমস্ত অডিটোরিয়াম এক সাথে অবাক নিঃস্বাস ত্যাগ করলো! গন্ডগোল করে ফেলেছেন কলকাতা চত্বরের তৎকালীন বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্বয়ং! এবার কি হয়! সাথে সাথেই decision নিলেন Prof. চক্রবর্তী - নতুন করে শুরু হবে খেলা। ও, বলে রাখি - প্রতিটা প্রশ্নই একটিভ থাকা কালীন স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছিলো। যাই হোক, সবার এখন এই debacle ভুলে গিয়ে নতুন করে খেলায় মন দেওয়ার পালা! উনি আবার প্রশ্ন করলেন Calcutta Boys-কেই। Direct প্রশ্ন - ৫ পয়েন্ট - এবার ঠিক উত্তর দিলো Calcutta Boys. পরের প্রশ্ন এলো আমাদের কাছে (৫ পয়েন্ট)- আমরা দিলাম ভুল উত্তর। খেলা গিয়ে দাঁড়ালো - Calcutta Boys আমাদের থেকে ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে না থেকে, ৫ পয়েন্টের লিড নিয়ে খেলা শুরু করলো। যখন clockwise প্রথম রাউন্ড শেষ হলো - আমাদের সংগ্রহে তখন মোটে ৫ পয়েন্ট। সবার থেকে এগিয়ে রয়েছে মুর্শিদাবাদের চশমা পড়া সুলতান; আমরা ষষ্ঠম স্থানাধিকারী (সঠিক সঞ্চালন হতো এটা - Restart-এর প্রথম প্রশ্ন করা উচিৎ ছিল আমাদের -৩ পয়েন্টের জন্য; এবং তার পরের প্রশ্নটাও আমাদেরই ৫ পয়েন্টের)।

শুরু হলো anticlockwise রাউন্ড। খেলা দেখলো অডিটোরিয়াম। শেষ হলো দ্বিতীয় রাউন্ড। এখন আমাদের স্কোর ২৬ পয়েন্ট। কলকাতা জয় করেছেন সিরাজ - ৪১ পয়েন্ট। কিন্তু খেলা তো শেষ নয়! শেষ পংক্তিতে নিজেদের স্বাক্ষর রেখে যাওয়ার ট্রেডিশন আমরা তখনও ধরে রেখেছি। যুগ্ম-তৃতীয় হয়ে বসে আছি, সেই Calcutta Boys-এর সাথে। আবার টাই ব্রেকার - এক টাই ব্রেকার দিয়ে জীবনের এই চ্যাপ্টারের prologue লেখা; অতএব এটাই যথাযত যে আরেক টাই ব্রেকার দিয়ে সজ্জিত হবে উপসংহার। 

সন্দীপ চক্রবর্তীর কম্পিউটারে তখন চারটে প্রশ্ন বাকি। Sudden death খেলা - দুটি টীমকেই প্রথমে একটি করে direct প্রশ্ন করা হবে - কে আগে বেশি পয়েন্ট স্কোর করবে? প্রথম রাউন্ডটা হবে clockwise - যদি Calcutta Boys ভুল উত্তর দেয় - আমরা pass-এ ঠিক উত্তর দিলে খেলা শেষ; অথবা যদি তারা ঠিক উত্তর দেয় ও আমরা আমাদের direct প্রশ্নে ভুল - তবেও খেলা শেষ।

কিন্তু খেলা শেষ হলো না - দুটো টীম-ই নিজেদের প্রশ্নের ঠিক উত্তর দিলো। এবার হাতে বাকি দুটো প্রশ্ন। Anticlockwise. এই দুই প্রশ্নেও একই ফলাফল হলে কী হবে -তা তখনও অজানা! যদিও সেখানে জল গড়ালো না। আমরা দিলাম ভুল উত্তর - Calcutta Boys pass-এ তৃতীয়। 

পুরস্কার স্বরূপ সিরাজ-উদ-দৌলাহের হাতে Prof. U. R. Rao তুলে দিলেন GSLV-এর 1/10th size-এর replica. State Level-এ দ্বিতীয় স্থানাধিকারীদের জন্য 1/20th GSLV, Calcutta Boys পেলো 1/50th - আর আমরা 1/100th উচ্চতার একটা গোল্ড-প্লেটেড replica - যা এখনও আমাদের স্কুলের প্রিন্সিপাল অফিসের ডেস্কে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। 

আজ হঠাৎ এই গল্পের কারণ কি? আমার অনেক স্মৃতি-চারণেই নিজের আক্ষেপের কথা লেখা থাকে; ভুলের বর্ণনা; আফসোসের দলিল হয়ে ওঠে আমার শব্দ-ভান্ডার। কিন্তু শুধু নেগেটিভকে আঁকড়ে ধরে থাকার বান্দা তো আমি নই। চার বছরে একবার পৃথিবী নিজের অস্তিত্বের হিসেব বুঝে নেয় - বুঝে নিতে হয় সমাজের সমস্ত জীবকে। 

থেমে যাওয়া, হেরে যাওয়া, মেনে নেওয়া - সেরকমই periodically কেউ কেউ ধুয়ে ফেলে। কালের নিয়মে। প্রকৃতির নিয়মে। যারা ৩৬৫-এর গায়ে লেগে থাকা .২৫-কে বোঝে না, তারা অঙ্ক বোঝে না; বা রাতের আঁধারে তারাদের মূল্য বোঝার চেষ্টা করে না। কিন্তু এই মহাবিশ্ব কারোর বোঝার ধার ধারে না - সত্যকে অবলম্বন করে নিজের ভবিষ্যতে এগিয়ে যায় - সে সত্য আলোয় ভরা হোক বা গভীর নিচ্ছিদ্র অন্ধকারে। কারোর চোখে এই পথ চলা arrogance, কারোর চোখে শুধুই অন্ধকারের হাতছানি - কেউ কেউ দ্যাখে আলোর স্বপ্ন; কিন্তু সময় নির্বিকার। তার চরিত্র অগ্রমুখী।

আমরা national level-এ qualify করিনি। State level-এও প্রথম রাউন্ডে সেরকম ভালো পারফর্ম করিনি। কিন্তু অ্যাডাল্ট হওয়ার আগেই নিজেদের অধিকারের জন্য সঠিক লড়াই করেছি - এবং বৃহৎ মঞ্চে ওঠার আগে জীবনের ক্ষুদ্র মঞ্চের দর্শকদের entertain করেছি। Shakespeare নিশ্চই বলেছেন, "All the world’s a stage, And all the men and women merely players" - ধ্রুব সত্য - শুধু নিজেদের চরিত্র সেদিন নিজেরা লিখেছিলাম। 

কলমের নিবে আত্মবিশ্বাস আজও মুখিয়ে আছে।

Monday, May 30, 2022

গুরু

ডক্টরেট শেষ করার সময় একবার সুযোগ এসেছিলো জীবন বৃত্যান্ত লেখার। থিসিসের সাথে জুড়ে দেওয়া acknowledgement সেক্শন। এক অধ্যায়ের ইতি টানা, আপন হাতে। শিক্ষালাভের প্রতি স্তরে নিজের গুরুদের প্রণাম সেরেছিলাম। প্রণাম করা হয়নি, মনে রাখা হয়নি এমন একজন মানুষকে যিনি সর্বোপরি; যাঁর আশীর্বাদে নিজের ওপর বিশ্বাস ফিরে পেয়েছি সমস্ত অন্ধকারে; যিনি প্রকৃত অর্থেই আমার গুরু, আমার নবজীবনের সীমানা শিখা। 

মুখ ফুটে এই মানুষটিকে আমি এইসব কোনো কথাই বলিনি কোনোদিন। আজ আশ্চর্য হচ্ছি, গত পাঁচ বছরে আমার মনেও পড়েনি ওনার অবদানের কথা আমার জীবনে। হয়তো অনেক অভিমান তার কারণ, বা আমার নির্বুদ্ধিতা, অথবা আমার স্বার্থপর দৃষ্টিভঙ্গি যা নিজের বাইরে কিছুই দেখতে দেয়নি। তবে পরম সত্যি এই যে, জীবনে যদি কখনও ঈশ্বরের উপলব্ধি করে থাকি, সাহসী হয়ে থাকি, তার গভীরতম কারণ এই মানুষটি। 

যাঁর কথা বলছি, উনি আমার চোখে শুধুই আমার গুরু। গুরু, যাঁর চোখে চোখ রাখার ক্ষমতা যদি আমার হয় তাহলে আমার চেয়ে বেশি কলঙ্কিত কেউ হবে না, উনি আমার শ্রদ্ধার শ্রেষ্ঠ। 

আমার নিজের স্বত্যাকে ভাঙলে বেশির ভাগটা বিজ্ঞানী হবে না; হবে তার্কিক। শিক্ষায় হয়তো তর্ক প্রয়োজন, যেমন সমর্পন, তেমনই। কিন্তু সমর্পন যদি আসে আলস্য অথবা ভাবনার প্রতি বিকর্ষণ থেকে, তাহলে যেমন তার মূল্য বড়ই নগন্য, ঠিক তেমনই অহংকার থেকে আসা তর্কও বাস্তবে মূল্যহীন, ধংসাত্মক। গুরুর সাথে ওনার আসন-সুলভ তর্ক করতে প্রয়োজন স্বচ্ছ মন। নিজেকে তুচ্ছ মনে না হলে মনের এই রূপ শরীরে নিজের আশ্রয় খোঁজে না। সময়ের সাথে বিজ্ঞানে আমার জ্ঞানবৃদ্ধি হয়েছে, গত সাড়ে তিন বছর আমায় আমার তুচ্ছতার একটু হলেও দর্শন করিয়েছে। আমি মুগ্ধ হয়েছি যখন কোনো নতুন প্রশ্ন বা উত্তর খুঁজে পেয়েছি নিজের ভেতর, শেখার আনন্দ হয়েছে, অবশ্যই কিছু মানুষকে নতুন রহস্যভেদের স্বাদও দিয়েছি মাঝেমাঝেই। কিন্তু আমার ঈশ্বর? তাঁর থেকে দিন দিন দূরে আসতে আসতে এখন যেন নিজের স্বত্যারই সীমায় এসে দাঁড়িয়েছি। এখন শুধু সাথে আছে হতাশা, এবং গভীর, নিরুদ্ধ অহংকার। 

জীবন, সংসার, পরীক্ষা, শিক্ষা সবই কি শুধু খেলা? হয়তো তাই। কে কতটা তরবারি সামলে সুযোগ বুঝে প্রতিপক্ষকে মক্ষম কোপ মারতে পারে, জীবনের প্রতি পদক্ষেপ যেন তারই নিশান দুলিয়ে বিজয়রথ চালাচ্ছে। শুধু আলাদা থেকে যায় স্নেহ; নিষ্পাপ। ঘন, কলুষিত অন্ধকার চিড়ে আপনবিকশিত আলো; যার মন্ত্রে অন্ধকার খুব সহজেই সোঁপে দেয় নিজের অস্তিত্ব। এমন আলো- যা শোনা যায় সেতারের ঝঙ্কারে- মধ্যরাতে। গুরুর আশীর্বাদ ছাড়া আদৌ এই আলোর স্পর্শ মেলে?

আমার শিক্ষামঞ্চে না আমি অর্জুন, না একলব্য। প্রকৃত শিষ্য হওয়ার জন্য মনের যে সাহস, যে জোর প্রয়োজন, আমার কাছে আছে তার সিকি ভাগ মাত্র। সেই কারণেই আমি কার্যক্ষেত্রে সৌভাগ্যেবান হয়েও মধ্যবিত্ত। কলেজে বা ইউনিভার্সিটিতে নিজেকে সতেজ ও বড় রেসের ঘোড়া হিসেবেই ভেবেছি শুধু; জেদ এবং অহংকার দুইই ছিল সমানে সমানে। এখন কাটাছেঁড়ায় দেখা যাবে জেদের জাফরান হওয়ার জো। 

যে শিক্ষা শুরু হয়েছিল আমার নবজীবনের সাথে, তাকে আমার তার্কিক মন কোথায় হারিয়ে ফেললো কালের লীলায়? চিরকাল তো অহংকার ছিল না, সমর্পন তো ছিল প্রাককালে। হয়তো স্বচ্ছ তার্কিক মন, সাথে তেজ ও জেদের সমন্বয়ও  ছিল। যা ছিল না তা হলো ক্ষমতা -সৎ সাহস। প্রশ্ন করার -প্রকৃত প্রশ্ন - 'কেন ?' - এই শব্দটা সঠিক স্থানে বের করে আনার । সেই সময় এই প্রশ্নকে চেপেছি জেদ দিয়ে, গাঢ় হয়েছে অহংকার ধীরে ধীরে, শিক্ষার পথ বদলেছি লোভে - মূলত শিক্ষারই লোভে। 

২০১৫ সালে যখন আধ্যাত্মীক হাওয়ার প্রথম প্রলেপ ছুঁয়ে চলে গেছিলো আমায়, ভয় পেয়েছিলাম। হারিয়ে ফেলার। স্বচ্ছ হওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলাম নতুন করে। কিন্তু অহংকার তো ত্যাগ করিনি তখনও। গর্বিত বোধ করেছি জ্ঞানে, অজ্ঞানে। 

আমায় ঈশ্বর কোন পথে নিয়ে যাবেন তা উনিই জানেন। আজ এই সব কথা লেখার কারণ হয়তো আমার ভয়, ঈশ্বর কে কোনোদিন না ফিরে পাওয়ার ভয়। অহংকার, ক্রোধ, ভয়-মুক্ত না হওয়ার ভয়। লোভের ভয়। ছলনার ভয়। শুধু ভয় না। এই অবিশ্বাস ভরা মনকে পুনর্বিশ্বাসী করার- হয় কামনা, অথবা চেষ্টা। 

যে মানুষটিকে শ্রদ্ধা করে আজকের এই লেখা, ওঁনার হাতে আমার উপনয়ন হয়েছিল ২২ বছর আগে। থিসিসের acknowledgement-এ নিজের গুরুকে ভুলে যাওয়া আমায় নিজের চোখে নিজেকে ছোট করে দিয়েছে। যাঁর জন্য জীবনের অসংখ্য প্রতিকূলতায় লড়াই করেছি নির্দ্বিধায়, ওনাকেই স্মরণ করতে ভুলে যাই - এই স্বার্থপর স্বত্যা থেকেই নিজেকে বের করে আনা আজ প্রয়োজন বোধ করেছি। 

নতুন কাজ , নতুন রহস্যভেদে আনন্দ আছে নিশ্চই, শান্তি নেই। কোনো নতুন খেলাই আমি আর খেলতে চাইনা। জেতার মানসিকতা আমার বরাবরই অল্প। আছে, তবে আমার হৃদয় জুড়ে নয়। আমি খেলোয়াড় নই কোনো কালেই। তাই ছোট বড় খেলায় আমার অহংকার কোথাও জিতেছে, কোথাও মুখ থুবড়ে পড়েছে -কিন্তু আমি শুধুই হেরেছি - নিজেকে - তিলে তিলে।

গত চার বছরে আমি পড়াশোনা করেছি ঠিকই, কিন্তু ছবি তুলিনি। আজ নিজের তোলা কিছু পুরোনো ছবি দেখে নিজেকেই মনে পড়লো দুপুরবেলায়। অস্ট্রিয়ায় আল্প্স-ঘেরা ইন্সব্রুক শহরের দিনান্তের blue hour- এর ছবি। এই ছবির সাথে জড়িয়ে আছে একজনের স্নেহ; আমার আরেকজন গুরু - যিনি আমায় হাত ধরে সফ্ট ম্যাটার শিখিয়েছেন, যিনি আমায় ভালোবাসা না দিলে আমার ড্রেসডেন, বার্লিন, মিউনিখ, প্রাগ, কাশী, প্যারিস, আখেন, জেরুসালেম দেখা হতো না। আমার আলস্যে ওনাকে আমি অপমান করবো না। 


নিজের মনের কথা লিখে রাখা আজ জরুরি হয়ে উঠেছে। আমার মন আছে আমার শহর কলকাতায়। বেড়ে ওঠা না হলেও, আমার বড় হওয়ার শহর। আমার স্বপ্নের শহর। বিদেশ ঘুরতে আমি এই কারণেই পছন্দ করতাম কারণ আমার ফেরার ঠিকানা ছিল কলকাতা; বন্ধুদের মাঝে, স্নেহের কোলে, বাবা-মার মাঝে। সকল পাওয়া-হারানোর মধ্যে যা চাপা পড়ে যায়, তা হলো এন্টালি, শ্যামবাজার, সল্ট-লেক, ফোর্ট-উইলিয়ামের কিছু স্মৃতি, সেই সময়ের - যখন চোখে স্বপ্ন ছিল না, শুধু ছিল সারল্য; মনে অহংকার পোষার স্থান নিয়ে ছিল ক্যাবলামির সাথে বিবাদ; ভালোবাসা ছিল নিঃস্বাসের তরঙ্গ, ভয় ছিল মায়ের শাসন; ঈশ্বর ছিলেন প্রাণে, শরীরে, পৃথিবীতে। 

এতকিছু গুরুদেবকে বলার মতো ক্ষমতা আমার নেই। মনে মনে প্রণাম জানিয়েই ওনার আশীর্বাদ পাই, আর কিছু দিয়ে এমনিই বা আমার কি করার আছে?

Wednesday, May 18, 2022

The silica merchant

 Words, like pearls of ocean, rest 

Within me, buried beneath waves of silence;

I watch, I adore, I admire 

The new, and the nostalgia, alike 

I look for sweat through cobbled streets

I let go of what is, and isn't me.


A Bedouin, I trade unhinged, within me 

Faces, smoke, mirrors, and other veils;

And when it rains after eons of neutrality,

I scourge the desert for sand and sanity.


A merchant of shining silica, I live in glitter 

Nevermind the license, to be, touch or plunder;

Birds of prey, words of wisdom on the horizon 

Or simply mirages for the damned, I wonder.









Thursday, April 28, 2022

সুন্দরী কমলা

 লিখতে বসে হাত কাঁপলে মুশকিল;

মেঘ কাটা সন্ধ্যে, এইট-বির গরমিল 

মিঠে হাওয়ায় ভেজা ঠোঁটের কোনার তিল 

আর কিছু অসম্ভবের স্বপ্ন বাতিল -

ব্রেক খাওয়া মন, কানেক্টরের অটো

থমকে থমকে এগোনো, যাতনা যত;

বাড়ালেই হাত, তবু আড়ালে ফটো 

দীর্ঘশ্বাস সময়; যেন আমারই মতো -

চা-কাপ হাতে, ফুচকার স্বাদ

 কমন রুম, পোস্টার, স্লোগানের দোয়াত 

 শূন্য দেওয়াল, শূন্য মনের ফাঁদ

দরজার এপার শুধু ওপারের অজুহাত ;

জানালা-প্রান্তে আকাশ কিছুটা কালো

সবুজ সালোয়ার; আড়ালে লাল আলো 

রোমিও-জুলিয়েট-তীর্থ অনেক তো হলো,

তাই আমায় বরং কমলা হলেই বোলো।

Wednesday, April 6, 2022

মেঘদূতম জবর্দস্তম

তুঙ্গভদ্রার তীরে মহাভারতের অন্য রূপ। সেখানে কৃষ্ণ বা অর্জুন বাজিমাত করেন না; বংশীধারী স্বয়ং শেষনাগ। সংগীতের নাগপাশে বাঁধা পড়ে প্রেম, নৃত্যে মত্ত মঞ্জিরা। ধূর্ত বাঙ্গালীর কঠিন শৃঙ্খল, তুমি দেখতে পাচ্ছ কি? কবির অষ্টম সর্গ; নবদ্বীপের চন্দন তোমার জন্য। মাঝরাত্রের মৃৎপ্রদীপের শিখা অগ্নিকন্যার চোখে, ঘুমের অন্দরমহলে। 

প্রাগৈতিহাসিক মেঘের ছটায় রঙিন হোক রট্টা যশোধরা।

Monday, March 28, 2022

আমার ইচ্ছেগুলো

 যার কথায় লিখতে শেখা 

নিজের তুচ্ছ শব্দগুচ্ছো 

পুড়িয়ে ফেলার কিছুটা আগে;

তুচ্ছ, অথচ অমূল্য,

দরদামে বিক্রি হয়েছে হাওয়ায় হাওয়ায়;

গন্ধে নেই, ছন্দে নেই, অস্তিত্বে নেই 

নেই-এর পাহাড়ে থাকার আশ্রয় নেই;

মধ্যরাত, বুকের ভেতর নতুন দোয়াত -

আছে তবু - না থাকার গল্পের ধ্বংসস্তূপ।

সায়াহ্নে ভোরের আভা সাদায় সদায় অমসৃণ 

ছিটকে যাওয়া গোলাপীর মত 

আমার অভিমান; উড়ে, সুরে জুড়ে রঙিন।

যদি রং খেলতে বিকেল অপ্রস্তুত 

হয়ে সন্ধ্যাতারার অপেক্ষায় কেঁদে ওঠে 

রাত যদি শূন্যস্থান হয় পৃথিবীর স্থিরতায় 

যা হয়, হয় না, তার কোনটাই বা সয়?

Rhythms, displacements and rhythms

 What do we need from this world?

The world has always been a mirror,

Shining with the thinnest of rays,

In love, and in awe, of being alive.

The world is music, and rhythm

And waves, or displaced particles

Simply put, a fellow traveler,

On a carpet of relative absurdities.

If you ask me what I have left

With and without me, I wouldn't frown

For any more than a moment, or word

For what is, is but an illusion of sorts.

The illusion that sings to me

On a cold desert night, bisecting the dunes

As the earth travels, relative to the stars

And light; and rhythms which are; and used to be.

The Choice

At 03:17 UTC, the system stopped. Nothing on Earth stopped with it. Freight trains moved through mountain tunnels, satellites adjusted their...